যেসব অভ্যাসে এক মাসেই বদলে যাবে জীবন
হুট করেই কি নিজেকে বদলে ফেলা যায়? সকালে ঘুম ভেঙেই কি নিজেকে বদলে ফেলতে পারবেন? নিজেকে ইতিবাচক উপায়ে পরিবর্তন করতে হলে নিজেকে সময় দিতে হবে, নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে।তবে জীবনের সন্তুষ্টির জন্য আগে অবশ্যই দেখতে হবে নিজের আইডিয়া ও কাজের পরিকল্পনা। জীবন কতটা সুন্দর হবে, তা নির্ভর করে মানুষের অভ্যাস ও তার সঠিক পদক্ষেপের উপরেই। রোজকার জীবনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। জীবনে পরিবর্তন আনতে চাইলে আপনাকে করতে হবে কিছু কাজ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কী করলে এক মাসের মধ্যেই জীবনে বদল আনা সম্ভব।
১. সামাজিকতা বা মেলামেশা বাড়াতে হবে
মানুষ আপনাকে এড়িয়ে চলছে, এ সব ভেবে দমে গেলে চলবে না। চেষ্টা করতে হবে মানুষের সাথে মিশার এবং সামাজিকতা বৃদ্ধির। পারলে অচেনা মানুষজনের সঙ্গেও আলাপ পরিচয় করুন। দেখবেন, ধীরে ধীরে মানুষের সঙ্গে মিশতে গিয়ে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ছে। লজ্জা, সঙ্কোচ, দ্বিধা, দ্বন্দ্ব কাটছে। কাজেকর্মেও অনেক বেশি উৎসাহী হয়ে উঠছেন।
২. ডায়েরি লিখুন
লেখা অনেকেরই আসে না। সবাই লেখক নন। কিন্তু নিজের মনের কথা সহজ ভাষায় লেখাই যায়। ডায়েরি লেখার অভ্যাস থাকলে খুব ভাল। না থাকলে, অভ্যাস করুন প্রতিদিনের কাহিনী প্রতিদিন লিখে রাখার। কাজে যদি প্রশংসা পান তা’ও লিখুন, হতাশা এলেও লিখে রাখুন। নিজের দরকারি কোনও কথা, পেশা সংক্রান্ত বিষয় বা পরিবারের কথা, যাই হোক না কেন, কয়েক লাইন লেখার অভ্যাস মনঃসংযোগ বাড়াবে।
৩. লক্ষ্য স্থির করুন
লক্ষ্য স্থির না করলে জীবনে উন্নতি হবে না। জীবনে উন্নতি করতে হলে একটা লক্ষ্য ধরে এগোতেই হবে এবং সেইমতো প্রতি দিনের কাজ গোছাতে হবে। কোনও কাজই কাল করব বলে ফেলে রাখা চলবে না। কাজ শেষ করার অভ্যাস করতেই হবে। কোন কাজের গুরুত্ব বেশি, সেটি নিজেকেই ঠিক করতে হবে। সময় নষ্ট করার বদলে গুরুত্ব বিচার করে কাজকেও ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। তা হলেই লক্ষ্যের পথ মসৃণ হবে। সময়ের গুরুত্ব বোঝার মানসিকতা তৈরি হবে।
৫. দায়িত্ব নিতে হবে
নিজে থেকে এগিয়ে গিয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। মনোবিদেরা বলেন, দায়িত্ব নিয়ে কোনও কাজ করার অভ্যাস তৈরি হলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। নিজের থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। খারাপ ও ভুলের পার্থক্য বোঝা অনেক সহজ হয়ে যায়।
৬. অতিরিক্ত রাগ নয়
ভাল খবর হোক বা খারাপ, শোনার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত রাগ ভুল পথে ঠেলে দেয়, অনেক সময়েই। ধীরে সুস্থে মাথা ঠান্ডা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভাল। নিজেকে আগে প্রশ্ন করতে হবে, কেন এমন হল বা কী হতে চলেছে? কিছুক্ষণের ভাবনাচিন্তা থেকেই হয়তো বড় জটিলতার সহজ সমাধান বার হয়ে আসতে পারে।
৭. অনুকরণ নয়
পেশা আর ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা রাখতেই হবে। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে যাঁরা থাকেন, তাঁদের প্রভাব মনে ছাপ রাখেই। তবে কাউকে অনুকরণ করলে কখনওই নিজের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। ফলে এক সময় হতাশা, অবসাদ ঘিরে ধরে। মানসিক চাপও বাড়ে। তাই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরির চেষ্টা করা ভাল।
৮. ‘না’ বলতে শিখুন
জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে ‘না’ বলাটাই উচিৎ। সব কিছুতেই ‘হ্যাঁ’ বলা খুব কঠিন। সম্পর্ক হোক বা প্রতি দিনের কাজ, গুরুত্ব বুঝে তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কে কী ভাববে, কার কাছে অপ্রিয় হবেন, এ সব মনে না করে, প্রয়োজন মনে করলে সরাসরি ‘না’ বলুন। এই অভ্যাস তৈরি করতেই হবে।
৯. নিজের খেয়াল রাখুন
ব্যস্ততা যতই থাক, নিজের ছোট ছোট চাহিদার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক সময় খাওয়া, সঠিক সময়ে ঘুম। শরীরচর্চার অভ্যাস থাকলে তার জন্য সময় বার করা জরুরি। নিজের শখ বা ভাল লাগার কাজ করাটাও জরুরি। রোজের ব্যস্ততায় নিজের ভাল লাগার কাজগুলি না করলে একঘেয়েমি আসবে অল্প দিনেই। দুশ্চিন্তাও ভোগাবে।
No comments