থাইরয়েডের সমস্যা কি মা হতে বাধা সৃষ্টি করে ?
বর্তমানে মানুষ থাইরয়েডের বিষয়ে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। গুরুত্ব দেয়ার কারণ রয়েছে বটে! কারণ এটি সারাজীবন বয়ে বেড়ানোর রোগ। এটি হলে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় পড়তে হয় ভুক্তভোগীদের। গর্ভকালীন মা ও গর্ভস্থ শিশুর নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন থাইরয়েডের সমস্যা প্রধানত দুই ধরনের একটি হাইপারথাইরয়েডিজম। এ ক্ষেত্রে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। হাইপোথাইরয়েডিজম। এ ক্ষেত্রে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ কমে যায়।
অনেকেই আছেন, যারা হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত হন। শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণ কমে গিয়ে শুরু হয় নানা গোলমাল। খাদ্যে আয়োডিনের অভাব, কিছু অটো ইমিউন ডিজঅর্ডার, থাইরয়েডের গ্রন্থির অস্ত্রোপচার হলে, রেডিয়েশন থেরাপি নিলে হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা শুরু হয়। এ ছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়, জন্মের সময়ে থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হলে, কিছু উৎসেচক ঠিকঠাক কাজ না করলে, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, পুঁইশাক, মিষ্টি আলু, মটরশুটি, পিচফল, স্ট্রবেরির মতো খাবার বেশি মাত্রায় খেলে শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণ কমে যেতে পারে।
পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ রোগের আধিক্য বেশি দেখা যায়। পুরুষ ও নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যে থাইরয়েড হরমোনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে হরমোনটির তারতম্যের কারণে বন্ধ্যাত্ব পর্যন্ত হতে পারে। গর্ভকালীন মা ও গর্ভস্থ শিশুর নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে। যাদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে, তারা একটা উদ্বেগের মধ্যে থাকেন, তারা মা হতে পারবেন কিনা। অবশ্যই পারবেন, তবে তার জন্য চাই সচেতনতা।
হাইপোথাইরয়েডিজম হলে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন, দুর্বলতা, ওজনবৃদ্ধি, বেশি ঠান্ডা লাগা, পেশি এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, চুল পড়ে যাওয়া, পা ও মুখ ফুলে যাওয়া, গলার স্বর পাল্টে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হওয়ার মতো লক্ষণ দেখলে সতর্ক হোন। শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণ কমে গেলে মনে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, মানসিক চাপ বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা শুরু হয়, অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব শুরু হয়।
ডা আবিদা সুলতানা, Dr Abida Sultana, health, fitness, healthy life, সফলতার সূত্র, আসুন সুস্থ থাকি, মানসিক স্বাস্থ্য, asun sustho thaki, mental health
No comments