৬ মাস পর ঢামেক থেকে হাসানের মরদেহ উদ্ধার, ভোলায় দাফন
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের সামাদার গ্রামের মো. হাসানের মরদেহ ৬ মাস পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাওয়া যায়।
ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়ার পর শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহামাদার গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে কাচিয়া শাহামাদার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে শতশত মানুষের উপস্থিতিতে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয়দের সঙ্গে হাসানের স্বজনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভোলার সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ইউছুফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা আব্দুর রহিম, মো. মাসুদ, মো. পারভেজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এর আগে, হাসানের মরদেহ বাড়ি পৌঁছলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসী।
হাসান শাহামাদার গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে। চার ভাই-বোনের মধ্যে হাসান ছিলেন মনির-গোলেনুর দম্পত্তির ২য় সন্তান। এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে হাসানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা লাশ নিয়ে কফিন মিছিল করেন।
জানা গেছে, হাসান ঢাকার যাত্রাবাড়ি কাপ্তাই বাজারে ভগ্নিপতির ইলেক্ট্রনিক দোকানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এদিকে, ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে অংশ নেয়ার পর থেকে হাসান বাড়ি না ফেরায় দীর্ঘদিন নিখোঁজ হাসানের সন্ধানে ঢাকার সকল হাসপাতালে খোঁজার পাশাপাশি ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও ছবিসহ যোগাযোগ করেন স্বজনরা।
এর আগে, গত বছরের ৫ আগস্ট বিকেলে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় বিজয় মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ভোলার ছেলে মো. হাসান। দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে হাসানের লাশ শনাক্ত করা হয়। পরে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে হাসানের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসানের বাবা মনির হোসেন জানান, দীর্ঘ ৬ মাস হাসানকে খোঁজাখুঁজি করে কোথায়ও না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ফরেনসিক বিভাগে একটি লাশ শনাক্ত করেন। এরপর তারা ডিএনএর নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার হাসানের লাশ হস্তান্তর করেন।
No comments