Adsterra

সাংবাদিকদের ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হয়: কাদের গনি চৌধুরী

সাংবাদিকদের ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হয়: কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News, Hot News, bangla news, ban

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকরাই শুধু সাংবাদিকতা বাঁচাতে পারেন। আর এ জন্য দরকার ঐক্য। একজন সাংবাদিকের কাজ সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। সাংবাদিকতার জন্য দরকার সত্যবাদিতা, ন্যায্যতা, সততা, স্বাধীনতা এবং জবাবদিহি।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) যশোরের সাংবাদিক ইউনিয়নের চার যুগপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। এ পেশার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা, মানুষের কথা বলা। মানুষের সমস্যা, সমাজের নানা অসংগতি, অনিয়ম ও অবিচার তুলে ধরা।

রাজধানী ঢাকার মতো মফস্বলেও এ পেশায় আত্মনিয়োগ করে সাংবাদিকরা জনসেবা ও সমাজকল্যাণ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিছু পাওয়ার জন্য নয়, নিতান্ত ভালোবাসা ও জনসেবার মহৎ উদ্দেশ্য থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এ পেশায় আসেন একজন প্রকৃত সাংবাদিক। একজন ভালো সাংবাদিককে যেমন সাহসী হতে হয়, তেমনি সত্যনিষ্ঠ ও নীতির প্রশ্নে আপসহীন এবং ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হয়।

তিনি বলেন, একজন সাংবাদিকের কাজ সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। সে জন্য গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। সাংবাদিককে বলা হয় সমাজের ওয়াচডগ। এই দর্পণে প্রতিবিম্বিত হয় সমাজের প্রতিচিত্র। অন্যায়, অনিয়ম, নিগ্রহ, শোষণ-বঞ্চনা ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে একজন সাংবাদিককে সোচ্চার থাকতে হয় সব সময়। চোখ রাঙানোকে তোয়াক্কা না করে নির্ভীক ও নিরলসভাবে কাজ করতে হয়। প্রচলিত সমাজব্যবস্থার চিত্র প্রত্যক্ষ করতে হয়।

মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্যে তাদের দিন যায়। ক্ষমতাধরদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হয়। অভাব-অনটনের ভেতর শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হয়। পরিশ্রম করতে হয় অনেক। এটা সত্য যে, সততা নীতি ও আদর্শ নিয়ে যারা সাংবাদিকতা করেন অর্থাভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। টানাপড়েনের ভেতর দিয়ে তাদের চলতে হয়। সংসার চালানো তাদের জন্য বড় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। দারিদ্র্যের ঘেরাটোপে বন্দি থেকে তাদের জীবন কাটাতে হয়।

কাদের গনি আরো বলেন, এর ব্যতিক্রম চিত্রও আমরা দেখতে পাই। অযোগ্য-অর্বাচীন কিছু মানুষের পদচারণে কলঙ্কিত হতে দেখা যায় বাংলাদেশের সাংবাদিকতার গৌরবময় জগৎ। কোনো মহৎ উদ্দেশ্য থেকে নয়, অর্থলিপ্সুতা থেকে এবং সমাজে প্রভাব তৈরি করার ইচ্ছে থেকে অনেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। ভুঁইফোড় সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা নানা ধান্ধাবাজি করে। নানা রকম অপ তৎপরতায় লিপ্ত থাকে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে সংবাদ পরিবেশনের হুমকি দেয়। ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে দেদার অর্থ আদায় করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এরা অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে যায় এবং একই ধরনের কিছুসংখ্যক ব্যক্তি মিলে গড়ে তোলে সাংবাদিক সিন্ডিকেট। এদের রুখে দাঁড়াতে হবে। না হয়, সাংবাদিকদের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বীর শহিদ ও অকুতোভয় আন্দোলনকারীদের স্মরণে ও সম্মানে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে শাহরিয়ার সোহাগ এর নতুন উপন্যাস বাংলা বসন্ত

যশোরের জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল মজিদ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা টিএস আইয়ুব,খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আনিসুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক রানা, আলাউদ্দিন এবং প্রেসক্লাব যশোর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন,সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান কবীর, সাইফুল ইসলাম সজল, সাইফুর রহমান সাইফ, সাবেক সভাপতি এম আইউব, সরোয়ার হোসেন, হানিফ ডাকুয়া, জুয়েল মৃধা, টিআই তারেক, জুবায়ের আহমেদ, গোলাম মোস্তফা মুন্না, এম আর খান মিলন প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি শহিদ জয়, সহ-সভাপতি বিএম আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক গালিব হাসান পিল্টু, কোষাধ্যক্ষ এম আর মশিউর রহমান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম সিনিয়র সদস্য রাজেক জাহাঙ্গীর শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন, মো. রফিকুল ইসলাম, আশরাফুল আজাদ, ফিরোজ গাজী অনেকে।

No comments

Powered by Blogger.