যে উপায়ে বাজার করলে টাকা বাঁচবে
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—স্বাস্থ্য ও অর্থ। তবে সুস্থ থাকতে ব্যয়বহুল খাবারই খেতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সঠিক পরিকল্পনা করলে সাশ্রয়ী মূল্যের খাদ্যদ্রব্য থেকেই পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। এজন্য মূলত দুটি পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি—খাদ্য পরিকল্পনা ও কেনাকাটার পরিকল্পনা।
এই দুটি পরিকল্পনাকে সঠিকভাবে সমন্বয় করতে পারলে একদিকে অর্থের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে শরীর পাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘৫-৪-৩-২-১ মেথড’ নামে একটি পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা অনুসরণ করলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব এবং একই সঙ্গে অর্থের অপচয়ও এড়ানো যাবে।
৫-৪-৩-২-১ পদ্ধতি কী?
কাঁচাবাজারে গেলে অনেক সময় পরিকল্পনাহীন কেনাকাটার কারণে বাজেটের হিসাব এলোমেলো হয়ে যায়। প্রয়োজন না থাকলেও চোখে পড়া কোনো পণ্য কিনে ফেলি, যা পরে নষ্ট হয়ে যায়। এতে শুধু খাবারেরই নয়, অর্থেরও অপচয় হয়। এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে ৫-৪-৩-২-১ পদ্ধতি, যার প্রবক্তা মার্কিন নাগরিক উইল কোলম্যান। এটি মূলত সাশ্রয়ী বাজার পরিকল্পনার একটি কৌশল, যা দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে।
কিভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি?
এই পদ্ধতি অনুসরণ করে সাপ্তাহিক বাজারের একটি পরিকল্পিত তালিকা তৈরি করতে হবে। তালিকাটি হবে—
৫ ধরনের সবজি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, ঢ্যাঁড়স, লাউ, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ব্রুকলি, শিম ইত্যাদি থেকে যেকোনো পাঁচটি সবজি বেছে নিন।
৪ ধরনের ফল: মৌসুমি ফলের মধ্যে থেকে যেকোনো চারটি ফল বেছে নিন—যেমন কলা, আপেল, কমলা, পেয়ারা, তরমুজ, আম, কাঁঠাল, লিচু বা আঙুর।
৩ ধরনের আমিষ: ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, বাদাম, কুমড়ার বীজ বা ডালজাতীয় আমিষের মধ্যে থেকে তিনটি নির্বাচন করুন।
২ ধরনের সস, দুগ্ধজাত পণ্য বা স্ন্যাকস: টক দই, মাখন, চাটনি, পিনাট বাটার, বাদাম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের মধ্যে থেকে দুটি রাখুন।
১ ধরনের শস্যজাতীয় খাবার: চাল, আটা, পাস্তা, ওটস ইত্যাদির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিন।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সম্ভব হবে, পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবার তালিকায় বৈচিত্র্য ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করা যাবে।
No comments