রমজান মাসের ফজিলত ও করণীয়
রামাযান মাস একটি অত্যন্ত বরকতময় মাস, যেখানে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ থাকে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে রামাযান মাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হলো : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম (রামাযানের) ফরয করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরয করা হয়েছিল- যাতে করে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।’ (সূরা আল বাকারা: ১৮৩)। নিয়ত: মনে মনে নির্দিষ্ট কোনো কাজের সংকল্প করার নামই হলো নিয়ত।
সওমের জন্য আরবী বা মাতৃভাষায় নিয়তের কোনো শব্দাবলী উচ্চারণের কোনো প্রয়োজন নেই। ফরয সিয়ামের জন্য ফজরের পূর্বেই মনে মনে নিয়ত বা সংকল্প করতে হবে। (আবু দাউদ-২৪৫৪, তিরমিযী-৭৩০)। রাসুলুল্লাহ বলেছেন : ‘প্রত্যেক আমলের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল’ (সহীহ বুখারী-০১, সহীহ মুসলিম-৪৮২১)। সাহারী : আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘আর ফজরের কালো সুতা হতে সাদা সুতা প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত তোমারা পানাহার কর। অতঃপর রাত পর্যন্ত তোমরা সিয়াম পূর্ণ কর।’ (সূরা আল বাকারা : ১৮৭)। শেষ রাতে সাহারী খাওয়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ বলেন : ‘তোমরা সাহারী খাও! কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।’ (সহীহ বুখারী-১৯২৩, সহীহ মুসলিম-১০৯৫)। যদি কোনো কারণে সাহারী খাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে না খেয়েই সিয়াম পালন করতে হবে।
সাহারীর আযান : রাসুলুল্লাহ বলেন : ‘বিলাল (রা.) রাত থাকতেই আযান দিয়ে থাকে। তাই তার আযান শুনার পরও তোমরা সিয়ামের জন্য পানাহার করতে পার, যতক্ষণ পর্যন্ত আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম (রা.) আযান না দেয়।’ অত:পর আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘ইবনু উম্মু মাকতুম ছিলেন অন্ধ। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে ভোর হয়েছে ভোর হয়েছে এরূপ বলা না হত, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না।’ (সহীহ বুখারী-৬১৭)। তাই, সাহারীর সময় সিয়াম পালনকারীদের ঘুম থেকে জাগাতে ডাকা-ডাকি, হরেন বাজানো, মিছিল- শ্লোগান ইত্যাদি না করে আযানের নিয়ম চালু করা প্রয়োজন।
ভুলবশতঃ পানাহার: রাসূলুল্লাহ বলেন : ‘সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি যদি ভুল করে খায় বা পান করে, তাহলে ঐ অবস্থায় সে সিয়াম পূর্ণ করবে। কেননা মহান আল্লাহ-ই তাকে পানাহার করিয়েছেন।’ (সহীহ বুখারী- হা. ১১৩৩, সহীহ মুসলিম-১৯৫৫)।
ইফতার: সূর্য অস্ত যাবার সাথে সাথেই ইফতার করা ইসলামী শরী'আতের নির্দেশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘যতদিন পর্যন্ত লোকেরা দ্রুত (সূর্যাস্তের সাথে সাথে) ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।’ (সহীহুল বুখারী- হা. ১৯৫৭, সহীহ মুসলিম- হা. ১০৯৮)। হাদীসে কুদসীতে রয়েছে- আল্লাহ তা'আলা বলেন : ‘সেই সব বান্দা আমার নিকট প্রিয় যারা সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করে। ’ (তিরমিযী- ৭০০)।
তারাবীর সালাত: রামাযান মাসে তারাবীর সালাত আদায় করা সুন্নাহ। সহীহ হাদীস অনুযায়ী তারাবী সালাত দুই দুই রাকা'আত করে মোট আট রাকা'আত এবং সাথে তিন রাকা'আত বিতর।আয়েশা রাঃ-কে রাসূলুল্লাহ-এর রামাযানে রাতের সালাত কেমন ছিল প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ রামাযানে ও রামাযান ব্যতীত অন্য সময়ে রাতে ১১ রাকা'আতের বেশি পড়তেন না।’ (সহীহ বুখারী- ১১৪৭; সহীহ মুসলিম- ৭৩৮)।
আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সহিত সওয়াবের আশায় রামাযানের রাত্রিতে তারাবীহর সালাত আদায় করবে, তার পূর্বের সকল পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহীহ বুখারী-৩৭;সহীহ মুসলিম-৭৫৯)।
ফযীলত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রামাযান মাসে সিয়াম পালন করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের প্রত্যাশায় রামাযান মাসের রাত ইবাদতে কাটাবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে; আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের প্রত্যাশায় ক্বাদর রাত ইবাদতে কাটাবে তার পূর্বকৃত গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (সহীহ বুখারী- ১৯০১, সহীহ মুসলিম- ৭৫৯)।
No comments